হাম ও হামের উপসর্গে দেশে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে দুইজন হামে এবং ৬ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। এ নিয়ে গত ৩২ দিনে ২০৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ৩৪ জন হামে এবং ১৭২ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন্স অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবছরই কম বেশি হামের আক্রান্ত হলেও আগে কখনোই হামে এতো শিশুর মৃত্যু হয়নি। এবারই হামের প্রাণঘাতি রুপ দেখছে দেশের মানুষ। অভিভাবকদের মধ্যে এক প্রকার উদ্বেগ কাজ করছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্তি মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১৫ মার্চ সকাল ৮ টা থেকে ১৬ এপ্রিল সকাল ৮ টা পর্যন্ত হাম সন্দেহজনক রোগী ২০ হাজার ৩৫২ জন। নিশ্চিত হাম রোগী ৩ হাজার ৬৫ জন। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৩ হাজার ১২৯ জন এবং ছাড়পত্র পেয়েছে ১০ হাজার ৪৯৬ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, হাম সন্দেহজনক রোগী, নিশ্চিত হামের রোগী, হামে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু সবই বেশি ঢাকায়। হাম সন্দেহজনক রোগী ঢাকা ৮ হাজার ৭৫৯, রাজশাহী ৩ হাজার ৯৫৪, চট্টগ্রাম ২ হাজার ৬৭০, খুলনা ১ হাজার ৬৭১, বরিশাল ১ হাজার ২৭১, সিলেট ৮৯০, রংপুর ৬৭২ ও ময়মনসিংহ ৪৬৫ জন।
নিশ্চিত হামের রোগী ঢাকায় ১ হাজার ৮৪৫, রাজশাহী ৮১৩, চট্টগ্রাম ১৮১, বরিশাল ৭৯, খুলনা ৬৮, সিলেট ৪৫, ময়মনসিংহ ২০ ও , রংপুর ১৪ জন। হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকায় ৭৮, রাজশাহী ৬৫, চট্টগ্রাম ১২, খুলনা ১০, বরিশাল ২, সিলেট ৫ জন এবং নিশ্চিত হামে ঢাকায় ২০, বরিশালে ৫, চট্টগ্রাম ৪, রাজশাহী ৩, ময়মনসিংহ ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
হাম নিয়ন্ত্রণে আগামী ২০ এপ্রিল থেকে দেশের বাকী অংশে এই টিকাদান কার্যক্রম চলবে। এর আগে গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশেনে একযোগে টিকা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, টিকা ক্যাম্পেইন শুরু পর থেকে গতকাল পর্যন্ত ১১ লাখ ৩১ হাজার ১২৮ শিশু টিকা পেয়েছে অর্থাৎ গতকাল পর্যন্ত ১০৭ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ১০ লাখ ৫৯ হাজার ৭৭ শিশু। ছয় বিভাগে মোট লক্ষ্যমাত্রা ২১ লাখ ৮০ হাজার ১০৫ শিশু।
বরিশাল মোট লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৭৭ হাজার ৭৮৮ শিশুর। গতকাল পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা ৯১ হাজার ৮৮৮ শিশু। টিকা পেয়েছে ৯৩ হাজার ৯৩৩ শিশু। গকতাল পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে ১০২ শতাংশ। চট্টগ্রামে মোট লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৪৩ হাজার ১৫৫ শিশু, গতকাল পর্যন্ত লক্ষমাত্রা ছিরো ১ লাখ ৯ হাজার ৫৩৫ শিশু। টিকা পেয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ২১২ শিশুর। ১২৩ শতাংশ লক্ষমাত্রা পূরণ হয়েছে। ঢাকায় মোট লক্ষমাত্রা ১১ লাখ ৮ হাজার ৪০৬ শিশু, গতকাল পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা ৪ লাখ ৫৫ হাজার ১৯ শিশু, টিকা পেয়েছে ৪ লাখ ১৯ হাজার ৮৫৭ শিশু। ৯২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে।
খুলনায় মোট লক্ষ্যমাত্রা ৯১ হাজার ৬৩৫ শিশু, গতকাল পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৫৭ হাজার ২৫৪ শিশু, টিকা পেয়েছে ৫৯ হাজার ৮২৫ শিশু, লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে ১০৪ শতাংশ। ময়মনসিংহে মোট লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৩৪ হাজার ২৯৩ শিশু, গতকাল পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৯৬ হাজার ৭২৫ শিশু, টিকা পেয়েছে ১ লাখ ৬৮৩ শিশু। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে ১০৪ শতাংশ। রাজশাহী মোট লক্ষ্যমাত্রা ৪ লাখ ২৪ হাজার ৮২৮, গতকাল পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ২ লাখ ৪৮ হাজার ৬৫৬, টিকা পেয়েছে ৩ লাখ ২২ হাজার ৬১৮ শিশু। লক্ষ্যমাত্রা ১৩০ শতাংশ পূরণ হয়েছে।
এছাড়া বরিশাল, ময়মনসিংহ, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৫ দিনে ৩ লাখ ৯ হাজার ৪৪৮ জন টিকা পেয়েছে। ৯৪ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে। ঢাকার বাইরে শতভাগের বেশি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হলেও ঢাকায় শতভাগ হয়নি।