নিজ ক্যাম্পাসে মরণোত্তর সম্মাননায় ভূষিত হলেন কিংবদন্তি অভিনেতা হুমায়ূন ফরীদি। বাংলা থিয়েটারের উদ্যোগে ১৪-১৬ এপ্রিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হল ‘জাহাঙ্গীরনগর ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২০২৬’। এবারই ছিল এ আয়োজনের প্রথম আসর।
জহির রায়হান মিলনায়তনে আয়োজিত এই তিনদিনব্যাপী উৎসবে ১৮টি বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। এতে, চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদানের জন্য মরনোত্তর সম্মাননা দেওয়া হয়েছে হুমায়ুন ফরীদিকে। হুমায়ূন ফরীদি জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্যচর্চা করেই তিনি জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি অর্জন করেন।
এছাড়া, এ আয়োজনে বিশেষ সম্মাননা পেয়েছেন শহীদুজ্জামান সেলিম, আবু রিজওয়ান ইউরেকা, আইনুন, নাহার পুতুল ও অবন্তী সিঁথি।
পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে পুরস্কৃত হয়েছে খন্দকার সুমন পরিচালিত ‘সাঁতাও’, মাস্তাফিজুর নূর ইমরানের ‘জ্বীনের বাচ্চা’ এবং গিয়াসউদ্দীন সেলিমের ‘কাজলরেখা’। স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে সম্মাননা পেয়েছে আহমেদ হাসান সানির ‘সং ফ্রম দ্য সাউথ’, ফজলে রাব্বির ‘দ্য ইটারনাল জার্নি’ এবং দেবাশীষ দাসের ‘দ্য ব্যালাড অব আ গীক’।
জাহাঙ্গীরনগর এডিশন বিভাগে পুরস্কৃত হয়েছে মানজুর আল হাসান ও নাবিল মাসতাফার ‘ইন্তেজার: প্রথম প্রহর’, সাজ্জাদুল শুভর ‘হাফ টু ইনফিনিটি’ এবং নাসির খন্দকারের ‘দ্য হেইজ’।
উদীয়মান তারকা হিসেবে সম্মাননা পেয়েছেন অনিরুদ্ধ হৃদয়, তানভীর অপূর্ব ও গোলাম ফারুক জয়। এছাড়া শ্রেষ্ঠ সংগঠক হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছেন মেহরাব সিফাত।
এর আগে উৎসবের প্রথম দিন (১৪ এপ্রিল) উপাচার্য ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের উপস্থিতিতে উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আয়োজন। দিনটিতে ডিরেকশন মাস্টারক্লাস পরিচালনা করেন নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন এবং প্রোডাকশন মাস্টারক্লাস পরিচালনা করেন মোহাম্মদ তৌকীর ইসলাম ও ‘দেলুপি’ চলচ্চিত্রের টিম।
দ্বিতীয় দিন (১৫ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত হয় চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। এদিন ৩টি পূর্ণদৈর্ঘ্য ও ৬টি স্বল্পদৈর্ঘ্যসহ মোট ৯টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। প্রদর্শনীর পর প্রতিটি সেশনে নির্মাতা ও শিল্পীদের অংশগ্রহণে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় হয়।
তৃতীয় দিন (১৬ এপ্রিল) আয়োজন করা হয় অভিনয় বিষয়ক মাস্টারক্লাস, যা পরিচালনা করেন মাস্তাফিজুর নূর ইমরান। এছাড়া ‘Our Stories’ শীর্ষক একটি বিশেষ সেশনে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ টিম এবং আয়োজকরা তাদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় তিনদিনের এই আয়োজন।
‘বাংলাদেশের সুর: মাটি ও মানুষ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই উৎসবের মাধ্যমে দেশের স্বাধীন চলচ্চিত্র চর্চা এবং নতুন প্রজন্মের নির্মাতাদের জন্য একটি সৃজনশীল প্ল্যাটফর্ম তৈরির লক্ষ্য তুলে ধরেন আয়োজকরা।