* সাংগঠনিক সংস্কার ও গতিশীলতা আনার লক্ষ্য: খন্দকার মোশাররফ
* ত্যাগী ও পরীক্ষিতরাই স্থান পাবেন: রুহুল কবির রিজভী
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে পূর্ণাঙ্গ কমিটি পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাংগঠনিক শক্তির প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত ঢাকা মহানগর বিএনপি। দীর্ঘ চড়াই-উতরাই এবং আন্দোলন-সংগ্রামের অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ নেতাকর্মীদের নিয়ে এই কমিটিগুলো সাজানো হচ্ছে। এবারের কমিটি গঠনে দলের হাইকমান্ডের প্রধান লক্ষ্য-বিগত দিনে রাজপথের আন্দোলনে যারা সক্রিয় ছিলেন এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দলের প্রতি অবিচল আনুগত্য প্রদর্শন করেছেন, সেই ‘ত্যাগীদের’ যথাযথ মূল্যায়ন করাÑএমনটাই জানিয়েছেন দলটির সংশ্লিষ্ট সূত্র।
বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মহানগরীর কমিটিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গত কয়েক বছরের আন্দোলনে যারা পুলিশের মামলা-হামলা মোকাবিলা করে মাঠে টিকে ছিলেন, তাদেরই নেতৃত্বে আনা হচ্ছে।
মূল্যায়নে ‘ত্যাগ ও রাজপথ’ ঢাকা উত্তর বিএনপির কমিটি পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে এবার কয়েকটি সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথমত, বিগত ৫ আগস্টের আগের ছাত্র-জনতার আন্দোলন এবং তারও আগে ১২ বছর ধরে চলা গণতান্ত্রিক আন্দোলনে কার ভূমিকা কেমন ছিল, তার একটি বিস্তারিত আমলনামা তৈরি করা হয়েছে। দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে মহানগরীর বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ড যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। যারা জেল-জুলুম সহ্য করেছেন এবং দলের কঠিন সময়েও মাঠ ছেড়ে পালাননি, তারাই মূলত এবারের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থান পাচ্ছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়।
দলের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, মহানগর উত্তরে ক্ষেত্রে যারা সাংগঠনিক ভিত্তি ধরে রেখেছেন, তাদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তরুণ ও লড়াকু নেতাদের ওপর আস্থা রাখা হচ্ছে বেশি, যারা উত্তরা থেকে শুরু করে মিরপুর-তেজগাঁও পর্যন্ত এলাকায় আন্দোলন সংগঠিত করতে সক্ষম।
নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুযায়ী, এবারের পূর্ণাঙ্গ কমিটিগুলোর আকার হবে বড়। কমিটিতে কয়েকশ সদস্য থাকতে পারেন, তৃণমূলের পরীক্ষিত নেতাদের জায়গা দেওয়া সম্ভব হয়। তবে শীর্ষ পদগুলোতে অভিজ্ঞ এবং তুলনামূলকভাবে তরুণ ও গতিশীল নেতাদের সমন্বয় করা হচ্ছে। বিগত সময়ে যারা আহ্বায়ক কমিটিতে থেকে কাজ করেছেন, তাদের পারফরম্যান্সও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় এক নেতা জানিয়েছেন, ঢাকা মহানগরের কমিটি আমাদের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ। এবার আমরা কোনো ভুল করতে চাই না। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই এই প্রক্রিয়ার তদারকি করছেন। যারা রাজপথে রক্ত দিয়েছেন, সময় দিয়েছেন এবং দলের প্রতি বিশ্বস্ত থেকেছেন, তারা এবার বিমুখ হবেন না বলেও মনে করছেন তিনি।
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আলোচনায় যারা : উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক বর্তমানে সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী হলেও সাবেক জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক আমিনুল হককে রেখে দেওয়া হতে পারে এমন আলোচনাও আছে দলটির ভেতরে। সূত্র জানা গেছে, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি পদে আলোচনায় আছেন ‘কাউন্সিলর আনারুজ্জামান’ নামে পরিচিত আনারুজ্জামান আনোয়ার। এছাড়া, ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর। মামুন হাসান এবং শফিকুল ইসলাম মিল্টন।
সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় যারা: মহানগর উত্তর বিএনপির বর্তমান সদস্য সচিব মোস্তফা জামান আলোচনায় রয়েছেন নতুন কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক পদে। এছাড়া আলোচনায় উঠে এসেছে ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম আহ্বায়ক এম কফিল উদ্দিন আহমেদের নাম। অন্যদিকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন ও যুগ্ম আহ্বায়ক এবিএম আব্দুর রাজ্জাকেরও শীর্ষ পদে আসার আলোচনায় রয়েছে বলে জানা যায়।
বিএনপির নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, আগামীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের বিকল্প নেই। তৃণমূলের দাবি, চাটুকার, ব্যবসায়ী বা বিত্তবৈভবের মালিকদের পরিবর্তে যারা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন, তাদেরই গুরুত্ব দেওয়া হোক।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার ফলে দ্রুতই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে এবং এবার অপেক্ষাকৃত তরুণ ও যোগ্যদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। সাংগঠনিক সংস্কার ও গতিশীলতা আনার লক্ষ্য বিএনপির। তিনি বলেন, দল যোগ্য ও ত্যাগীদের নেতৃত্বে আনতে কাজ করছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দলের হাইকমান্ড।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপি এখন সরকার গঠন করেছে, তাই জনগণের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা বেড়েছে। যেসব কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে সেগুলো এক এক করে দেওয়া হবে এবং সেখানে ত্যাগী ও পরীক্ষিতরাই স্থান পাবেন।
(মাজাহারুল ইসলাম)