আর মাত্র এক সপ্তাহ পর মেক্সিকোতে শুরু হতে যাচ্ছে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ। তবে এরই মধ্যে দেশটির রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে শিক্ষকদের আন্দোলন ও সহিংস বিক্ষোভ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। এতে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবং অংশগ্রহণকারী দলগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
গত বুধবার বিক্ষোভকারীরা মেক্সিকোর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তরে জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা চালায়। এ সময় তারা ল্যাম্পপোস্টসহ বিভিন্ন বস্তু ব্যবহার করে সরকারি ভবনে হামলা চালায়।
এর একদিন আগে, মঙ্গলবার, কট্টরপন্থী শিক্ষক ইউনিয়ন সিএনটিই (CNTE)-এর সদস্যরা বিশ্বকাপ উপলক্ষে স্থাপন করা কয়েকজন ফুটবলারের বিশাল প্লাস্টিকের মূর্তি দড়ি দিয়ে ফেলে দেয়। পরে মূর্তিগুলোর গায়ে থাকা জার্সি খুলে তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেও মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শিনবাউম স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, সরকার কোনো ধরনের দমনমূলক পদক্ষেপ নেবে না। নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিশ্বকাপের ঠিক আগে সরকারকে কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য করাই বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্য, তবে তার প্রশাসন সেই পথে হাঁটবে না। একই সঙ্গে তিনি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিক্ষোভরত শিক্ষকেরা মূলত বেতন বৃদ্ধি এবং পেনশন ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে সরকারের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার দাবি জানাচ্ছেন। দাবি পূরণ না হলে আগামী ১১ জুন বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরে বৃহৎ গণবিক্ষোভের হুমকি দিয়েছে শিক্ষক ইউনিয়ন সিএনটিই।
সরকারের সঙ্গে ৯ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে প্রাথমিক সমঝোতা হলেও আন্দোলনকারীরা তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি, শিক্ষকদের বেতন ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি করতে হবে।
উল্লেখ্য, মেক্সিকোর সরকারি স্কুলে একজন শিক্ষকের প্রারম্ভিক মাসিক মোট বেতন বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার টাকা (৮৩৩ ইউো)। বিশ্বকাপের দ্বারপ্রান্তে এসে শিক্ষকদের এই আন্দোলন আয়োজক ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও টুর্নামেন্টের শুরু ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।