আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে খেলার গতি বাড়ানো এবং সময় নষ্টের প্রবণতা কমাতে একগুচ্ছ নতুন নিয়ম চালুর ঘোষণা দিয়েছে ফিফা। সংস্থাটির রেফারিবিষয়ক প্রধান পিয়েরলুইজি কোলিনা জানিয়েছেন, ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি) বিশ্বকাপে ছয়টি নতুন নিয়ম কার্যকর করতে যাচ্ছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে তথাকথিত ‘ট্যাকটিক্যাল টাইমআউট’ নিয়ে। এত দিন অনেক সময় গোলকিপাররা কৌশলগতভাবে চোট পাওয়ার ভান করে খেলা থামিয়ে দিতেন। এ সুযোগে দুই দলের খেলোয়াড়রা সাইডলাইনে গিয়ে কোচদের কাছ থেকে নির্দেশনা নিতেন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গোলকিপার চোট পেলে অন্য খেলোয়াড়দের নিজেদের অবস্থানে অথবা সেন্ট্রাল সার্কেলের মধ্যে থাকতে হবে। কোনোভাবেই সাইডলাইনে গিয়ে কোচের সঙ্গে আলোচনা করা যাবে না।
কোলিনা জানান, নিয়ম ভঙ্গ করে কোচের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে রেফারিরা বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করবেন। টুর্নামেন্টের আগে সব দলকে নতুন নিয়ম সম্পর্কে জানিয়ে দেওয়া হবে।
খেলার গতি বাড়াতে আরও পাঁচটি নিয়ম চালু করা হচ্ছে। কোনো খেলোয়াড় ইচ্ছাকৃতভাবে থ্রো-ইন নিতে দেরি করলে সেই থ্রো-ইনের সুযোগ প্রতিপক্ষ দল পাবে। একইভাবে গোল-কিক নিতে সময়ক্ষেপণ করলে প্রতিপক্ষ দলকে কর্নার কিক দেওয়া হতে পারে।
এ ছাড়া বদলি হওয়ার সময় কোনো খেলোয়াড়কে ১০ সেকেন্ডের মধ্যে নিকটতম সাইডলাইন দিয়ে মাঠ ছাড়তে হবে। অন্যথায় বদলি খেলোয়াড় এক মিনিট পর্যন্ত মাঠে নামতে পারবেন না এবং ওই সময় দলকে ১০ জন নিয়েই খেলতে হবে।
মাঠের ভেতরে চিকিৎসা নেওয়া খেলোয়াড়কে পরবর্তী ৬০ সেকেন্ড মাঠের বাইরে থাকতে হবে। তবে গোলকিপারের চোট বা গুরুতর ফাউলের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।
উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মুখ হাত দিয়ে ঢেকে প্রতিপক্ষকে কিছু বললে সরাসরি লাল কার্ড দেখানোর বিধানও যুক্ত করা হয়েছে। এ ধরনের আচরণকে খেলাধুলার চেতনার পরিপন্থী হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্রোটোকলেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। কর্নার বা ফ্রি-কিকের মতো সেট-পিসের আগে সংঘটিত কোনো ফাউল সরাসরি গোল, পেনাল্টি বা শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেললে ভিএআর রেফারিকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সুযোগ দিতে পারবে।
এদিকে উত্তর আমেরিকার গরম আবহাওয়ার কথা বিবেচনায় রেখে বিশ্বকাপের প্রতি অর্ধে তিন মিনিটের একটি করে হাইড্রেশন ব্রেক রাখা হবে।
পিয়েরলুইজি কোলিনা বলেন, “মাঠে শুধু রেফারি, ফিজিও ও গোলকিপার থাকবেন আর অন্য সবাই বাইরে চলে যাবেন—এটি দেখতে অস্বাভাবিক লাগে এবং ফুটবলের জন্য মোটেও ভালো নয়।”