ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যেখানে মৃত্যুর পরও মানুষের আমলনামায় সওয়াব পৌঁছানোর পথ খোলা রাখা হয়েছে। বিশেষ করে নেক সন্তানের দোয়ার বরকতে মৃত বাবা-মায়ের গুনাহ মাফ এবং জান্নাতে তাঁদের মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। এটি যেমন সন্তানের জন্য বড় সওয়াবের কাজ, তেমনি মৃত বাবা-মায়ের প্রতি পবিত্র দায়িত্বও বটে।
কুরআনের শিক্ষা ও প্রার্থনা
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা সন্তানদের শিখিয়েছেন কীভাবে বাবা-মায়ের জন্য প্রার্থনা করতে হয়। সূরা ইবরাহীমের ৪১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “হে আমাদের রব! আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং মুমিনদেরকে ক্ষমা করুন, যেদিন হিসাব কায়েম হবে।”
যেসব আমলের মাধ্যমে বাবা-মা উপকৃত হন
হাদিসের আলোকে মুহাদ্দিসগণ এমন কিছু বিশেষ আমলের কথা বলেছেন, যার সুফল কবরে থাকা বাবা-মা সরাসরি ভোগ করেন:
দোয়া করা: রাসূল ﷺ বলেছেন, মানুষ মারা গেলে সব আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে তিনটি মাধ্যম খোলা থাকে। তার একটি হলো ‘নেক সন্তান’, যে তার বাবা-মায়ের জন্য নিয়মিত দোয়া করে।
সাদাকায়ে জারিয়া: বাবা-মায়ের পক্ষ থেকে মসজিদ নির্মাণ, টিউবওয়েল বসানো বা পবিত্র কুরআন বিতরণের মতো চলমান দানগুলো তাদের কাছে সওয়াব হিসেবে পৌঁছায়।
ঋণ পরিশোধ: বাবা-মায়ের যদি কোনো পার্থিব ঋণ থেকে থাকে, তবে সন্তান তা পরিশোধ করলে তাঁরা কবরের আজাব ও দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তি পান।
হজ ও রোজা: যদি তাঁরা জীবিত অবস্থায় হজ বা রোজা আদায় করতে না পারেন, তবে তাঁদের পক্ষ থেকে সন্তান তা আদায় করলে তাঁরা উপকৃত হন।
আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা: বাবা-মায়ের বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়দের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং তাঁদের সম্মান করাও মৃত বাবা-মায়ের জন্য সওয়াবের কারণ।
একটি বিশেষ দলিল
সহীহ বুখারীর একটি বর্ণনা অনুযায়ী, এক সাহাবী রাসূল ﷺ-কে তাঁর মায়ের হঠাৎ মৃত্যুতে দান করার সুযোগ না পাওয়ার কথা জানান। তিনি জানতে চান, মায়ের পক্ষ থেকে দান করলে তিনি উপকৃত হবেন কি না। রাসূল ﷺ দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে উত্তর দিলেন, “হ্যাঁ, উপকৃত হবেন।”
বাবা-মায়ের প্রতি প্রকৃত ভালোবাসা কেবল চোখের জলেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তাঁদের পরকালীন জীবন সুন্দর করতে নিয়মিত দোয়া, দান ও নেক আমল করাই হলো একজন সচেতন সন্তানের পরিচয়।