রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ততম এলাকা গুলিস্তানের ফুটপাত কিছুদিনের জন্য দখলমুক্ত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে তা আবারও হকারদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। অবৈধ দোকানপাট, ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী এবং অসংগঠিত বাণিজ্যিক কার্যক্রমের কারণে ফুটপাত এখন পথচারীদের জন্য কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে ব্যস্ত সড়কে নেমে চলাচল করছেন, যা বাড়িয়ে দিচ্ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি এবং তীব্র যানজট। নগর জীবনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হওয়ায় জনভোগান্তি দিন দিন বেড়েই চলেছে।
গতকাল শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সরেজমিনে গুলিস্তান এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ ফুটপাত আবারও হকারদের দখলে চলে গেছে। গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট, জিপিও সংলগ্ন ফুটপাত, পীরইয়ামিনি মার্কেটের বিপরীত পাশের রাস্তা, গোলাপ শাহ মাজার এলাকা এবং বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ ঘিরে নতুন করে অস্থায়ী দোকান বসিয়েছেন হকাররা। কোথাও কোথাও পুরো ফুটপাত জুড়ে পসরা সাজানো, ফলে হাঁটার কোনো জায়গাই অবশিষ্ট নেই।
গুলিস্তান মোড় থেকে মাজার রোড, যা কিছুদিন আগেও দখলমুক্ত ছিল, সেটিও এখন হকারদের নিয়ন্ত্রণে। পথচারীরা বলছেন, কয়েকদিনের স্বস্তির পর আবারও পুরনো ভোগান্তি ফিরে এসেছে। জিরো পয়েন্ট পেরিয়ে গোলাপ শাহ মাজারের দিকে হাঁটতে থাকা শরিফ আহমেদ বলেন, “উচ্ছেদের পর কিছুদিন ফুটপাত দিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করা যাচ্ছিল। এখন আবার সেই আগের অবস্থা—ফুটপাত দখলে, তাই বাধ্য হয়ে সড়কে নামতে হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, উচ্ছেদ অভিযানের পর যানবাহন চলাচলে যে গতি ফিরে এসেছিল, তা আবার কমতে শুরু করেছে। একই অভিমত প্রকাশ করেছেন নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা তপু তালুকদার। নিয়মিত এই পথে চলাচলকারী তপু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা কোনো দিনই শৃঙ্খলায় ফিরতে পারব না—এটাই বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
এদিকে বাইতুল মোকাররম এলাকার সামনে কথা হলে তপু তালুকদার নামের এক পথচারী বলেন, “রাস্তা দখলমুক্ত দেখে ভালো লেগেছিল। কিন্তু হকারদের কাঠামো আগেই রেখে দেওয়া হয়েছিল। তখনই বুঝেছিলাম তারা আবার ফিরে আসবে। এবারও তাই হয়েছে।”
শুধু পথচারীরাই নন, হকারদেরও রয়েছে নিজেদের যুক্তি। মাজারের বিপরীতে ফুটপাতে জুতার দোকান বসানো এরশাদ আলী বলেন, “আমাদের জন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়নি। কয়েকদিন দোকান বসাইনি, কিন্তু জীবিকা তো চালাতে হবে। সরকার বা সিটি কর্পোরেশন যদি নির্দিষ্ট জায়গা করে দিত, তাহলে আমরা ফুটপাত ছেড়ে দিতাম।”
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের যৌথ অভিযানে গুলিস্তান এলাকা থেকে ফুটপাত ও সড়কের অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়। এতে এলাকায় শৃঙ্খলা ফিরে আসে, পথচারীরা স্বস্তিতে চলাচল করতে পারেন এবং যানজটও অনেকাংশে কমে যায়। তবে সেই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শুধুমাত্র উচ্ছেদ অভিযান দিয়ে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। হকারদের পুনর্বাসন, কঠোর নজরদারি এবং পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনা ছাড়া ফুটপাত দখলের এই চক্র চলতেই থাকবে। নগরবাসীর স্বস্তি ফেরাতে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর উদ্যোগ—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।