২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে স্টেডিয়ামে দর্শকদের পানির বোতল নিয়ে প্রবেশের অনুমতি দেবে না ফিফা। নিরাপত্তাজনিত কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
এর আগে ফিফার আনুষ্ঠানিক স্টেডিয়াম আচরণবিধিতে সর্বোচ্চ ১ লিটার ধারণক্ষমতার খালি, স্বচ্ছ ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বোতল স্টেডিয়ামে আনার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে পরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে ফিফা।
সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিক-এর তথ্য অনুযায়ী, টিকিটধারীদের পাঠানো এক ই-মেইলে ফিফা জানিয়েছে, হালনাগাদ আচরণবিধি অনুযায়ী ২০২৬ বিশ্বকাপের কোনো স্টেডিয়ামেই পুনর্ব্যবহারযোগ্য পানির বোতল অনুমোদিত হবে না। ছুড়ে মারলে আঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে এমন আশঙ্কায় অন্যান্য ধরনের বোতলও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কারণ, এর ফলে দর্শকরা খালি বোতল নিয়ে এসে স্টেডিয়ামের পানির ফোয়ারা বা ডিসপেনসার থেকে পানি ভরে নেওয়ার সুযোগও পাবেন না। গত গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ক্লাব বিশ্বকাপে তীব্র গরম নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ভেন্যুগুলোতে বোতলজাত পানির দাম ছিল ৪ থেকে ৬ ডলার। ২০২৬ বিশ্বকাপে পানির মূল্য এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। তবে ফিফার দীর্ঘদিনের অংশীদার কোকা-কোলার পানি ব্র্যান্ড ‘দাসানি’ স্টেডিয়ামগুলোতে বিক্রি করা হবে।
এদিকে তাপপ্রবাহ ও দর্শকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১০৪ ম্যাচের মধ্যে প্রায় ২৬টি ম্যাচ এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হতে পারে, যখন আয়োজক শহরগুলোর ওয়েট বাল্ব গ্লোব টেম্পারেচার (ডব্লিউবিজিটি) ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করবে। পাঁচটি ম্যাচে এই সূচক ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডব্লিউবিজিটি তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বাতাসের গতি ও সূর্যালোকের সমন্বয়ে তাপজনিত চাপ পরিমাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটি, বোস্টন, মায়ামি, ফিলাডেলফিয়া, সান ফ্রান্সিসকো এবং নিউইয়র্ক/নিউ জার্সির ভেন্যুগুলোতে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে বাড়তি চ্যালেঞ্জ দেখা দিতে পারে।
তবে দুটি ক্ষেত্রে ছাড় রাখা হয়েছে। শিশুখাদ্য ও জীবাণুমুক্ত পানি অথবা চিকিৎসাজনিত কারণে প্রয়োজনীয় তরল বহন করা যাবে। সেক্ষেত্রে ইংরেজি, ফরাসি বা স্প্যানিশ ভাষায় চিকিৎসা সনদ দেখাতে হবে।
ফিফা জানিয়েছে, খেলোয়াড় ও দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য আঘাতের ঝুঁকি কমাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাপজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় আয়োজক শহরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে মিস্টিং স্টেশন, ফ্যান, পানি সরবরাহ কেন্দ্র এবং কুলিং টেন্টের মতো বিভিন্ন সুবিধা রাখা হবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।