* বাজেটে ‘গণমুখী’ এবং ‘জনআকাক্সক্ষার প্রতিফলন’ : বিশিষ্টজনরা
* ভেঙে পড়া অর্থনীতি পুনর্গঠনের বাজেট : অ্যাডভোকেট আবুল কালাম
* ৩১ দফার আলোকে জনগণের ভাগ্যোন্নয়নের বাজেট : সাহাবুদ্দিন তালুকদার
* সব শ্রেণিপেশার মানুষের জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে : মজিবুর রহমান সবুজ
* জনগণের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা পূরণের বাজেট : রবিউল ইসলাম নয়ন
দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে মানুষকে স্বস্তি দেওয়া, বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির পরিধি বাড়ানো এবং অর্থনীতিকে আরও উৎপাদনমুখী ও বিকেন্দ্রীভূত করার লক্ষ্য নিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
প্রস্তাবিত এই বাজেট ঘোষিত হওয়ার পর দেশজুড়ে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং সন্তোষ দেখা দিয়েছে-এমনই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকসহ রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশিষ্টজনরা।
তাদের মতে, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর জনগণের রায়ে ক্ষমতায় আসা দল বিএনপির পক্ষ থেকে ঘোষিত এই বাজেটকে ‘গণমুখী’ এবং ‘জনআকাক্সক্ষার প্রতিফলন’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, এই বাজেট কেবল অর্থনৈতিক দলিল নয়, বরং এটি ভেঙে পড়া অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের একটি কার্যকর পথরেখা।
বাজেট ঘোষণার পর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা শহরে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছে বিএনপির স্থানীয় ইউনিটের নেতাকর্মীরা। তৃণমূল থেকে আসা প্রতিক্রিয়ায় দেখা গেছে, বাজেটে কৃষি খাত, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের ওপর যে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, তা সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। বিশেষ করে সার, বীজ ও বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি বৃদ্ধির ঘোষণা প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক স্বস্তি নিয়ে এসেছে বলেও উল্লেখ করেছেন তৃণমূলের নেতারা।
বাজেট প্রসঙ্গে বগুড়া জেলা বিএনপির এক প্রবীণ নেতা বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের এই বাজেট প্রমাণ করেছে যে, এই দল সাধারণ মানুষের কথা ভাবে। বিগত বছরগুলোতে দেশের মানুষ যেভাবে নিষ্পেষিত হয়েছে, সেখান থেকে উত্তরণের জন্য এই ধরনের সাহসী বাজেটের প্রয়োজন ছিল। বিশেষ করে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য বাজেটে যে বিশেষ তহবিল রাখা হয়েছে, তা দেশের তরুণ সমাজকে আশাবাদী করে তুলেছে।
তৃণমূলের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বাজেটের অন্যতম বড় শক্তি হলো এর সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সম্প্রসারণ। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা এবং অসচ্ছলদের জন্য সহায়তার পরিমাণ বৃদ্ধি করায় গ্রামাঞ্চলের নিম্নবিত্ত মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। নওগাঁ ও রাজশাহী অঞ্চলের তৃণমূল নেতাদের মতে, কৃষি পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে বাজেটে কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন এবং পরিবহন ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তা উত্তরবঙ্গের কৃষি অর্থনীতিতে বিপ্লব ঘটাবে।
তৃণমূল নেতাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিল্পায়ন ও রপ্তানি খাতের প্রসারে ট্যাক্স হলিডে এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা এই বাজেটকে প্রকৃত অর্থেই বিনিয়োগবান্ধব করে তুলেছে। তারা মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ এবং ‘অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বের’ স্বপ্ন দেখিয়েছেন, এই বাজেট তার প্রথম শক্তিশালী ধাপ।
এছাড়া, বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বরাদ্দ বৃদ্ধির বিষয়টিকেও ইতিবাচকভাবে দেখছেন মাঠপর্যায়ের কর্মীরা। দেশের প্রতিটি উপজেলায় বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার যে অঙ্গীকার বাজেটে করা হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষকে আর উন্নত চিকিৎসার জন্য শহরে বা বিদেশে ছুটতে হবে না।
প্রস্তাবিত বাজেট প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বরিশাল জেলা দক্ষিন বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহিন বলেন, মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে সাজানো হয়েছে এই বাজেট।
তিনি বলেন, জনগণের জন্য সরকার বেশ কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে করছাড় দিয়েছে। ধান, চাল, গম, আলু, মাছ, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, চিনি, লবণ, ভোজ্যতেল এবং কৃষি বীজসহ প্রায় ৬০টি পণ্যের ওপর উৎসে কর কমানো হয়েছে। মসলাজাতীয় পণ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। খেজুর আমদানিও শুল্ক সুবিধা পাচ্ছে।
আবুল কালাম শাহিন বলেন, এই বাজেটে ‘গণমুখী’ এবং ‘জনআকাক্সক্ষার প্রতিফলন’ ঘটেছে। এই বাজেট ভেঙে পড়া অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের একটি কার্যকর পথরেখা। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের ওপর যে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, তা সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। বিশেষ করে সার, বীজ ও বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি বৃদ্ধির ঘোষণা প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক স্বস্তি নিয়ে এসেছে বলেও উল্লেখ করেছেন বিএনপির এই নেতা।
বিএনপি নেতা আবুল কালাম শাহিন আরো বলেন, নজিরবিহীন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে এই প্রস্তাবিত বাজেটে। দেখুন, এটি একটি বিনিয়োগবান্ধব বাজেট। কারণ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা এই বাজেটকে প্রকৃত অর্থেই বিনিয়োগবান্ধব করে তুলেছে। শিক্ষিত তরুণ ও বেকারদের ক্ষুদ্র শিল্পে উদ্যোক্তা হতে সহায়তা করার জন্য জামানতবিহীন ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এই বাজেটে। এটা প্রান্তিক পর্যায়ের খামারী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য খুবই গুরুত্ববহ।
বাজেট প্রসঙ্গে বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাহাবুদ্দিন তালুকদার শাহিন বলেন, দীর্ঘ দেড় দশক পর জনগণের রায়ে ক্ষমতায় আসা দল বিএনপির পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত এই বাজেট ‘গণমুখী’ এবং জনবান্ধব। এটি সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের বাজেট।
তিনি বলেন, বাজেটে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষি খাত, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে এবং রাষ্ট্রের অবকাঠামোগত উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এসব বিষয়টিকেও ইতিবাচকভাবে দেখছেন তিনি।
সাহাবুদ্দিন তালুকদার শাহিন বলেন, দেশের প্রতিটি উপজেলায় বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার যে অঙ্গীকার বাজেটে করা হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষকে আর চিকিৎসার জন্য শহরে বা বিদেশে যেতে হবে মনে করছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের দেয়া এতো বড় বাজেটকে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সাহসী বাজেট হিসেবে অ্যাখায়িত করে বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, এই বাজেট বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে দেশের মানুষের উন্নয়ন ও দেশের কল্যাণ বয়ে আনবে। বিএনপির ৩১ দফার আলোকে জনকল্যাণমূখী এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
বাজেট প্রসঙ্গে যুবদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়ন বলেন, বাজেট হলো জনগণের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা পূরণের প্রতিশ্রুতি। এটি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের বাজেট। প্রস্তাবিত এই বাজেটকে ঐতিহাসিক ও সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করেন তিনি।
কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপি নেতা ও যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা মজিবুর রহমান সবুজ বলেন, এই বাজেট জনবান্ধব বাজেট। দেশের সব শ্রেনি-পেশার মানুষের জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে। এই বাজেটে জনগনের ও দেশের সব সেক্টরের নজিরবিহীন গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা দেশের মানুষের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে মনে করছেন এই নেতা।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল করেছে কবি নজরুল সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদল। এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা, ‘এক দুই তিন চার, বাজেট হল চমৎকার’, ‘শিক্ষাবান্ধব বাজেট, সফল হোক সার্থক হোক’, ‘বাজেটের মূল অর্জন, জনগণের উন্নয়ন’ এবং ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ ইত্যাদি বলে স্লোগান দেন।
বাজেট প্রসঙ্গে কবি নজরুল কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইরফান আহমদ ফাহিম বলেন, জনগণের নির্বাচিত সরকার একটি জনবান্ধব বাজেট ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বকালের সেরা বাজেট এটি। এখানে শিক্ষা, সংস্কৃতি, শিল্প-বাণিজ্য, বিনিয়োগ-উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও ন্যায্যতাকে মূল বিবেচনা করে বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এই বাজেটকে সাধুবাদ জানানোসহ সরকারকে সর্বাবস্থায় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, তৃণমূল পর্যায় থেকে সংগৃহীত তথ্যানুযায়ী ৯৫ শতাংশের বেশি জেলা ও উপজেলা কমিটি এই বাজেটকে ঐতিহাসিক ও সময়োপযোগী বলে স্বাগত জানিয়েছে। দলের হাইকমান্ড মনে করছে, তৃণমূলের এই সন্তোষ আগামীতে সরকারের নীতি বাস্তবায়নে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক জনসমর্থন তৈরিতে সহায়ক হবে।
তবে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা কেবল বাজেট ঘোষণা নিয়েই সন্তুষ্ট নন, তারা এই বাজেটের সঠিক বাস্তবায়ন ও দুর্নীতিমুক্ত বণ্টনের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন। তাদের দাবি, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলে যে দুর্নীতি ও লুটপাট হয়েছে, তার পুনরাবৃত্তি যেন এই সরকারের আমলে না ঘটে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘শূন্য সহিতা’ নীতির প্রতি আস্থা প্রকাশ করে তারা বলেন, বাজেটের প্রতিটি টাকা যদি সাধারণ মানুষের কল্যাণে ব্যয় হয়, তবে বাংলাদেশ দ্রুতই এক সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের এই প্রথম বাজেট তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও সুসংহত করেছে। সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে শক্তিশালী ভিতের ওপর দাঁড় করানোর যে চ্যালেঞ্জ সরকার নিয়েছে, এই বাজেট তার এক সার্থক প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
(মাজাহারুল ইসলাম)