বাজেট উপস্থাপনের পর প্রথমবারের মতো বাজারে কোনো জিনিসের দাম বাড়েনি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘বাজেট ঘোষণার পর থেকে দেশের সচেতন মানুষ সাধুবাদ জানাচ্ছে।
বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্য তো বাড়েইনি, বরং কমেছে।’
শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনালে চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সকালে পত্রপত্রিকাগুলো দেখলাম সব পত্রিকা কমবেশি একটি নিউজ করেছে যে প্রতিবছর বাজেট উপস্থাপনের পরদিন বিভিন্ন জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যেত। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর রহমতে গত পরশু দিন বাজেট উপস্থাপনের পর এই প্রথমবারের মতো কোনো জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি।’
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে চার বা ছয় লেনে রূপান্তরের ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অবশ্যই, এই মহাসড়ককে বর্তমান সরকার চার বা ছয় লেনে রূপান্তরের কাজ শুরু করবে। পর্যটন নগরী, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ ভৌগোলিকগত কারণে কক্সবাজারকে অতি গুরুত্বপূর্ণ আখ্যা দিয়ে এই মহাসড়ককে অনেক আগেই চার বা ছয় লেনে রূপান্তর করা উচিত ছিল।’
তিনি বলেন, ‘আজ থেকে ২৫ বছর আগে আমি এই সড়ক দিয়ে কক্সবাজার এসেছিলাম। তখন সড়কটি যে অবস্থায় দেখেছিলাম এবার এসেও তা দেখতে হয়েছে, যা খুবই দুঃখজনক।
এবার অবশ্যই এই মহাসড়ককে অচিরেই চার বা ছয় লেনে রূপান্তর করার কাজ শুরু করা হবে।’
প্রধানমন্ত্রী লবণ চাষিদের দুঃখগাথা নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমি অবগত হয়েছি, এখানকার লবণ চাষিরা তাদের উৎপাদিত লবণের ন্যায্যমূল্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। তাই আমি কথা দিচ্ছি, আপনাদের এলাকার সন্তান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করে লবণ চাষিদের দীর্ঘদিনের দুঃখ মোচন করা হবে। যাতে এখানকার লবণশিল্প রক্ষা পায় এবং চাষিরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন।’
তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের মানুষের চিকিৎসাব্যয় যাতে আয়ত্তের মধ্যে আনা যায় সে জন্য ঘোষিত বাজেটে চিকিৎসাসংক্রান্ত সব ধরনের ট্যাক্স প্রত্যাহার করা হয়েছে। যাতে এর সুফল এই দেশের জনগণ পায়। অথচ বিশেষ মহলটি এই বাজেটের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। কারণ তারা দেশের জনগণের কল্যাণ চায় না বলেই বাজেট নিয়ে তাদের এই অবস্থান।’
প্রধানমন্ত্রী তার নির্বাচনী ইশতেহার তুলে ধরে বলেন, ‘জনগণের কল্যাণে সরকার কাজ শুরু করেছে। আঙুলে দেওয়া ভোটের কালি মোছার আগেই বিএনপি সরকার দেশের কৃষক, শ্রমিক থেকে শুরু করে সবার জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড প্রদানের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যেই প্রতি উপজেলায় ৮ থেকে ১০ হাজার পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’
চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এম মোবারক আলী ও চকরিয়া পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম আবদুর রহিমের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, সরকারের একাধিক মন্ত্রী, এমপিসহ দলের বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলার সিনিয়র নেতারা।