ডিজিটাল যুগে স্মার্টফোন আমাদের জন্য যেমন তথ্য, যোগাযোগ ও বিনোদনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে, তেমনি এর আড়ালে বেড়ে উঠছে নানা ধরনের সাইবার অপরাধ। বিশেষ করে টেলিগ্রামকেন্দ্রিক ইমেজ-বেজড সেক্সুয়াল অ্যাবিউজ (আইবিএসএ) ও ব্ল্যাকমেলিং বর্তমানে উদ্বেগজনক সামাজিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে।
সাইবার অপরাধীরা প্রবাসী বা কর্মজীবী দম্পতিদের সংবেদনশীল ছবি ও ভিডিওকে নিশানা বানাচ্ছেন। ‘এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন’ অনেকসময় রক্ষা করতে পারে না। রিমোট অ্যাকসেস ট্রোজান (RAT) ম্যালওয়্যারের মাধ্যমে ফোনের ক্যামেরা ও স্ক্রিন রেকর্ডিং নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
বিশ্লেষক জেনিফার আলম বলেন, এসব অপরাধ অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ‘ডিজিটাল ফানেল’-এর মাধ্যমে পরিচালিত হয়। প্রথমে সামাজিক মিডিয়ায় বিকৃত ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হয়, পরে গ্রুপে যুক্ত হওয়ার শর্ত আরোপ করা হয় এবং শেষে প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন প্যাকেজে ব্যবহারকারীদের ফাঁদে ফেলা হয়। একবার গ্রুপে ঢুকলে ভুক্তভোগীকে লাখ লাখ টাকা দাবিতে হুমকি দেওয়া হয়।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সচেতন থাকার পরামর্শ দেন:
• সংবেদনশীল ছবি বা ভিডিও কখনোই ইন্টারনেটে শেয়ার করবেন না।
• টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন ব্যবহার করুন।
• সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করবেন না।
• ব্ল্যাকমেলের শিকার হলে ভয় পেয়ে টাকা দেবেন না, দ্রুত থানা বা সাইবার ক্রাইম ইউনিটে অভিযোগ করুন।
আইনজীবী মো. হায়দার তানভীরুজ্জামান জানান, সম্মতি ছাড়া ছবি বা তথ্য ব্যবহার করে ভয় দেখানো বা ব্ল্যাকমেল করা গুরুতর অপরাধ এবং সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ ও দণ্ডবিধির অধীনে শাস্তিযোগ্য।
ডিজিটাল দুনিয়ায় আমাদের সামান্য অসতর্কতাই সারা জীবনের কষ্টের কারণ হতে পারে। সামাজিক লজ্জা বা ভয়ের চেয়েও বড় সত্য হলো—আপনি অপরাধী নন, আপনি ভুক্তভোগী। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা ছাড়া এ অন্ধকার জগৎ থেকে বের হওয়া সম্ভব নয়।