মায়ামি স্টেডিয়ামে দুর্দান্ত এক প্রদর্শনীতে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ‘সি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। দলের জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন তারকা ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস। যিনি করেছেন জোড়া গোল। অপর গোলটি আসে ম্যাথিউস কুনহার পা থেকে।
রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে নিয়মিত আলো ছড়ালেও জাতীয় দলের হয়ে ধারাবাহিকতা নিয়ে সমালোচনার মুখে ছিলেন ভিনিসিয়ুস। তবে চলতি বিশ্বকাপে সেই সমালোচনার জবাব দিচ্ছেন মাঠের পারফরম্যান্সেই। তিন ম্যাচে চার গোল করে তিনি এখন টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা ফর্মে থাকা খেলোয়াড়।
ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই ব্রাজিলকে এগিয়ে দেন ভিনিসিয়ুস। স্কটল্যান্ডের ডিফেন্ডার স্কট ম্যাককেনার ভুলে বল পেয়ে সহজেই গোলরক্ষক অ্যাঙ্গাস গানকে পরাস্ত করেন তিনি। ২২ মিনিটে আবারও জালে বল পাঠালেও ভিএআরের সিদ্ধান্তে গোলটি বাতিল হয়, যা নিয়ে কিছুটা বিতর্কও তৈরি হয়েছে।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে ব্রুনো গুইমারেসের ক্রস থেকে হেডে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ভিনিসিয়ুস। এতে বিরতিতে যাওয়ার আগেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ব্রাজিল।
দ্বিতীয়ার্ধে স্কটল্যান্ড কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও ব্রাজিলের গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার দুর্দান্ত সেভে দলকে নিরাপদ রাখেন। ৬০ মিনিটে কুনহা গোল করে ব্যবধান ৩-০ করেন এবং ব্রাজিলের জয় কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায়।
ম্যাচের ৭৬ মিনিটে মাঠে নামেন সুপারস্টার নেইমার। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর এটাই ছিল ব্রাজিলের জার্সিতে তার প্রথম উপস্থিতি, যা দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করে।
হ্যাটট্রিকের একাধিক সুযোগ পেলেও শেষ পর্যন্ত তা পূরণ করতে পারেননি ভিনিসিয়ুস। তবে তার জোড়া গোলই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
এই জয়ে ব্রাজিল গ্রুপ পর্ব শেষ করেছে ৭ পয়েন্ট নিয়ে। সমান পয়েন্ট পেলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় রানার্সআপ হয়েছে মরক্কো। স্কটল্যান্ডের সংগ্রহ ৩ পয়েন্ট, আর হাইতি কোনো পয়েন্ট ছাড়াই বিদায় নিয়েছে।
ব্রাজিল এখন নকআউট পর্বে আরও আত্মবিশ্বাসী, আর সেই আত্মবিশ্বাসের কেন্দ্রে রয়েছেন দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।