ভেনেজুয়েলায় স্মরণকালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার ৭ মাত্রারও বেশি শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে শত শত ভবন ধসে পড়ে বলে জানা গেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষরা বাঁচার আকুতি জানাচ্ছেন।
রাজধানী কারাকাসের ২৫ বছর বয়সী বাসিন্দা আলেজান্দ্রো রুইজ গার্সিয়া ভূমিকম্পের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ভূমিকম্প আঘাত হানার এক সেকেন্ডেরও কম সময় আগে তিনি গুগল থেকে একটি সতর্কবার্তা পান। এর পরপরই প্রবল কম্পনে চারপাশ কেঁপে ওঠে।
আলেজান্দ্রো আল জাজিরাকে বলেন, “সবকিছু ধসে পড়ছিল, যা আপনি অনুভব করতে পারবেন। আমি আমার বাড়ির একটি দেয়ালে ফাটল দেখি। এটি আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর মুহূর্ত ছিল।”
তিনি আরও বলেন, ভূমিকম্প চলাকালে বিমানের ইঞ্জিনের মতো শব্দ শোনা যাচ্ছিল। তিনি তার পরিবারকে নিয়ে ভবন থেকে বের হতে সক্ষম হলেও বাইরে এসে দেখতে পান বহু ভবন ধসে পড়েছে।
তার ভাষায়, “যখন আমি আমার দাদিকে আনতে যাচ্ছিলাম, তখন আশপাশের ভবনগুলো পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। মনে হচ্ছিল এটি কোনো যুদ্ধক্ষেত্র।”
তিনি আরও জানান, ধ্বংসস্তূপের ভেতর আটকে পড়া মানুষের চিৎকার শোনা যাচ্ছিল এবং চারপাশে আতঙ্কজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়।
আলেজান্দ্রো বলেন, “ধ্বংসস্তূপের দৃশ্য ধীরে ধীরে সামনে আসছে, আর প্রতিটি নতুন দৃশ্য আগের চেয়েও ভয়ঙ্কর। সত্যি বলতে, আজকের দিনটি আমাদের জন্য অত্যন্ত ভয়াবহ। ভেনেজুয়েলার জন্য এটি একটি কালো দিন। এসব স্মৃতি জীবনে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে।”
সূত্র: আলজাজিরা