গত বছর গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের ওপর আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের হামলার স্মৃতি এখনো স্পষ্ট। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতাকে উপেক্ষা করে আবারও জেলাটিতে পদযাত্রা নিয়ে যাওয়ার কথা জানালো জুলাই যোদ্ধাদের গঠিত দলটি।
শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম।
সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। সে লক্ষে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারের অংশ হিসেবে বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় পদযাত্রা সমাবেশ করবে এনসিপি। গোপালগঞ্জেও পদযাত্রা হবে কি না- সারজিসের কাছে এমনই প্রশ্ন রেখেছিলেন উপস্থিত সাংবাদিকরা।
জবাবে এনসিপি নেতা বলেন, ‘আমরা একটি জেলাকে কর্নার করতে চাই না। গোপালগঞ্জের মানুষও গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছে। সেখানে যারা অপরাধী ছিল, তাদের তদন্তসাপেক্ষে আমরা বিচার চাই। একইসঙ্গে কোনো নির্দোষ যেন সাজা না পায়, সেটাও লক্ষ্য রাখতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘এনসিপি ঘোষিত ‘জুলাই পদযাত্রা-২০২৬’ কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রার্থী ঘোষণা করা ১০০ উপজেলা ও পৌরসভায় পদযাত্রা থাকবে। গোপালগঞ্জে আমাদের ঘোষিত তালিকার একটি উপজেলা আছে। সুতরাং গোপালগঞ্জও এই কর্মসূচির বাইরে থাকবে না।’
সারজিস জানান, ‘গণভোট বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান ও সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে জুলাই পদযাত্রা-২০২৬’ আগামী ৬ জুলাই শুরু হবে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলার ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভায় পদযাত্রা করবে এনসিপি। যা দেশের ৬৪ জেলাকেই টাচ করবে।’
তিনি বলেন, ‘পদযাত্রার মাধ্যমে শুধু জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া নয়, বরং প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের সমস্যা সরাসরি শোনা এবং সেগুলো জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরাও দলের অন্যতম লক্ষ্য।’
একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করা এবং ঘোষিত প্রার্থীদের জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: গোপালগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচিতে ছাত্রলীগের হামলা, যা বলছে বিএনপি
এর আগে গত বছরের ১৬ জুলাই পদযাত্রা নিয়ে গোপালগঞ্জে গিয়েছিলেন এনসিপির নেতাকর্মীরা। তারই অংশ হিসেবে জেলা শহরের পৌরপার্ক এলাকায় একটি সমাবেশের আয়োজন করেন তারা।
কিন্তু সেদিন দুপুরের দিকে এনসিপির সমাবেশে হামলা চালায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ। সমাবেশের মঞ্চে থাকা সাউন্ড বক্স, মাইক এবং চেয়ারও ভাঙচুর করে তারা। ভাঙচুর করা হয় ইউএনও এবং পুলিশের গাড়িও। একটি গাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়েও দেওয়া হয়।
ওই হামলায় এনসিপির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। দলটির শীর্ষ কয়েকজন নেতা প্রাণ রক্ষার্থে ইউএনও অফিসে গিয়ে আশ্রয় নেন। হামলা হয় সেখানেও। পরে খবর পেয়ে সেনাবাহিনী গিয়ে উদ্ধার করে আনে এনসিপি নেতাদের।