* সারাদেশের শিক্ষাঙ্গনে সফর করে পুনর্গঠণ করবে ছাত্রদল
* তৃণমূলের সঙ্গে কেন্দ্রের দূরত্ব কমিয়ে আনার তাগিদ
* জনগণের দাবির পক্ষে রাজপথে সক্রিয় থাকার নির্দেশ
* নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বকে সামনে নিয়ে আসার পরিকল্পনা
* কমিটি পুনর্গঠনের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছেন হাইকমান্ড
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যক আসনে বিজয় অর্জন করে সরকার গঠন করে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার দেশ পরিচোলনার দায়িত্ব গ্রহণের শুরু থেকেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জনকল্যাণমূলক ৬০টি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করছে। কিন্তু রাজনৈতিক অঙ্গনে দল হিসেবে বিএনপি ও অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের দৃশ্যমান সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে এক ধরনের ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে এমনটাই বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকসহ রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।
তাদের মতে, রাজধানীসহ সারা দেশে বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা কাটাতে এবং নতুন করে গতি সঞ্চার করতে বড় ধরনের সংস্কার ও পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিচ্ছে দলটির নীতি-নির্ধারণী মহল। রাজপথের আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ দুই শক্তিকে আরও বেশি সক্রিয় ও সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্যেই সম্প্রতি জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশব্যাপী শিক্ষাঙ্গণে সাংগঠনিক সফর করবে ছাত্রদল।
বৈঠক সূত্র জানায়, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠণগুলোকে শক্তিশালী করতে হলে তৃণমূলের সাথে কেন্দ্রের দূরত্ব কমিয়ে আনতে হবে এবং জনগণের যৌক্তিক দাবির পক্ষে রাজপথে সক্রিয় থাকার বিষয়ে নির্দেশনা দেন দলটির চেয়ারম্যান। এছাড়া চলমান পরিস্থিতিতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়। বৈঠকে অংশ নেয়া অপর এক নেতা বলেন, কমিটি পুনর্গঠনের বিষয়টি দলীয় প্রধান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে যে, অনেক জায়গায় কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় চেইন অব কমান্ডে কিছুটা শিথিলতা তৈরি হয়েছে। এই স্থবিরতা কাটাতে ছাত্রদলের ক্ষেত্রে ‘নিয়মিত ছাত্রত্ব’ এবং ‘বয়সসীমা’র বিষয়টি কঠোরভাবে পালনের কথা ভাবছে বিএনপি। বিশেষ করে যারা সরাসরি ছাত্র রাজনীতির সাথে যুক্ত এবং নিয়মিত ক্যাম্পাসে যাতায়াত করেন, তাদের নেতৃত্বে আনার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, স্বেচ্ছাসেবক দলকেও ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে যারা নিবেদিতপ্রাণ এবং বিগত আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন, তাদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে নতুন কমিটি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অযোগ্য ও বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে সাংগঠনিকভাবে দক্ষ কর্মীদের সামনে নিয়ে আসাই এই সংস্কারের মূল লক্ষ্য।
দলের উচ্চপর্যায় থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, আগামী দিনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলকে বিএনপির ‘ভ্যানগার্ড’ হিসেবে গড়ে তুলতে চায় হাই কমান্ড। গত কয়েক বছরের আন্দোলনের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কিছু কিছু জায়গায় সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে কাক্সিক্ষত ফল পাওয়া যায়নি। তাই এবার সাংগঠনিক কাঠামোতে এমন কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে যাতে প্রতিটি স্তরের নেতাকর্মীরা সক্রিয়ভাবে কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারে।
তৃণমূলের প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জ তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ কর্মীদের মধ্যে এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তারা মনে করছেন, দ্রুত নতুন কমিটি গঠন করা হলে এবং ত্যাগী কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হলে সংগঠনের ভেতরে বিদ্যমান অসন্তোষ দূর হবে।
হাইকমান্ডের বিশেষ নজর বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যক্তিগতভাবে এই দুই সংগঠনের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার ওপর নজর রাখছেন বলে জানা গেছে। তিনি বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সাথে মতবিনিময় করে সংস্কারের রূপরেখা চূড়ান্ত করছেন। মূলত ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে জাতীয় রাজনীতির মূল ধারায় আরও বেশি সম্পৃক্ত করার একটি সুদূরপ্রসারী লক্ষ্যও এই উদ্যোগের পেছনে কাজ করছে বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।
সামগ্রিকভাবে, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলে এই গতি ফেরানোর উদ্যোগ কেবল সাংগঠনিক প্রক্রিয়াই নয়, বরং এটি বিএনপির সামগ্রিক রাজনৈতিক কৌশলের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সঠিক সময়ে যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচিত হলে এই দুই সংগঠন পুনরায় রাজপথে তাদের কার্যকর উপস্থিতি প্রমাণ করতে পারবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এ প্রসঙ্গে বৈঠকে অংশ নেওয়া এক নেতা বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দুই সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের ডাকেন। সেখানে দলীয় চেয়ারম্যান অঙ্গ সংগঠনগুলোর সাংগঠনিক অবস্থান জানতে চান। একই সঙ্গে সংগঠনগুলোকে শক্তিশালী ও কার্যকরী করতে করণীয় বিষয়ে মতামত নেন। বিশেষ করে আগামী দিনগুলোতে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বকে সামনে নিয়ে আসার যে পরিকল্পনা চেয়ারম্যানের রয়েছে সেটি আবারও ব্যক্ত করেন।
(মাজাহারুল ইসলাম)